Breaking News
Home / Lifestyle / পুরুষের অন্ডকোষ ঝুলে যাওয়া যে ভয়ংকর রোগের লক্ষন

পুরুষের অন্ডকোষ ঝুলে যাওয়া যে ভয়ংকর রোগের লক্ষন

টেস্টিস হচ্ছে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ। এখানে স্পার্ম বা শুক্রাণু তৈরি হয় এবং এই স্পার্ম বা শুক্রাণুর সঙ্গে মেয়েদের ডিম্বাণুর মিলনের ফলে সন্তানের জন্ম হয়। এই টেস্টিসের সংখ্যা দুটি।এর জন্ম পেটের ভিতর। টেস্টিসদ্বয় শিশুর মায়ের পেটে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই অন্ডকোষ (স্ক্রটাম) থলিতে অবস্থান নেয়। টেস্টিস বা অন্ডকোষের কি কি অসুখ হতে পারে : ১। টেস্টিস সঠিক স্থানে না আসা,টেস্টিস অন্ডকোষ থলিতে না এসে পেটে বা অন্য কোন স্থানে নামার সময় আটকে যেতে পারে। এই ধরনের অসুখের ফলে টেস্টিসের বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটে এবং প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় ঝুঁকি বেড়ে যায়। সর্বোপরি টেস্টিসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

অতএব পিতামাতার উচিত এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং অতি সত্বর সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া। কারণ সময়মতো চিকিত্‍সা করলে টেস্টিসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে ও ক্যান্সার হওয়া রোধ হয়। চিকিত্‍সা :পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টেস্টিসের অবস্থান নির্ণয় করা অর্থাত্‍ টেস্টিস কোথায় আছে তা নিরূপণ করা এবং সঠিক স্থানে নামিয়ে আনাই হচ্ছে এর আসল চিকিত্‍সা। ২। টেস্টিসের টিউমার :টেস্টিসের জন্মের পর যদি সঠিক জায়গায় না থাকে ঐ টেস্টিসের টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে টেস্টিসের টিউমার হতে পারে। টেস্টিসের টিউমার হলেই টেস্টিস হঠাত্‍ অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। বেশির ভাগ সময়ই কোন ব্যথা হয় না। টেস্টিসের টিউমার সাধারণত ক্যান্সার হয়ে থাকে। সময়মতো চিকিত্‍সা না করলে অতি দ্রুত বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং মৃত্যু অনিবার্য।

৩।হাইড্রোসিল :টেস্টিসের দুটি আবরণ থাকে। যদি এই দুই আবরণের মাঝে পানি জমে তাকে হাইড্রোসিল বলে। বিভিন্ন কারণে টেস্টিসে পানি জমতে পারে। যেমন (ক)জন্মগত কারণ, (খ)ইনফেকশন, (গ)গোদরোগ/ফাইলেরিয়াসিস, (ঘ)টিউমার বা ক্যান্সার ইত্যাদি। হাইড্রোসিল হলে কি জটিলতা হতে পারে : (ক)অনেক বড় হয়ে চলাফেরায় অসুবিধা হতে পারে। (খ) দৈহিক মিলনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে। (গ) ক্যান্সারের কারণে হাইড্রোসিল হলে জীবন নাশের সম্ভাবনা থাকে। অতএব,সঠিক চিকিত্‍সার জন্য সার্জনকে দেখান। ৪। টেস্টিকুলার টরসন : ৫ বছর থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত টেস্টিসের এই অসুখ হয়।

এই রোগে টেস্টিস প্যাঁচ খেয়ে যায়, যার ফলে এর রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় এবং টেস্টিসের কার্যক্ষমতা হারিয়ে জড়বস্তুতে পরিণত হয়। এই রোগে টেস্টিসের হঠাত্‍ প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। দ্রুত এই রোগ নির্ণয় ও চিকিত্‍সা অতীব জরুরী। তা না হলে টেস্টিস গ্যাংগ্রিন হয়ে যায়। ৫। অরকাইটিস বা টেস্টিসের প্রদাহ :১৪ থেকে ২২ বছর বয়সে এই অসুখ বেশি হয় এতে টেস্টিসের ইনফেকশন হয় এবং প্রচুর ব্যথা ও টেস্টিস ফুলে যায়। রোগীর জ্বর ও প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া হয়। এই রোগের অন্যতম কারণ অবৈধ যৌন সঙ্গম।

সঠিক সময় চিকিত্‍সা না করলে টেস্টিসের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ৬। ভেরী কোসিল :টেস্টিসের রক্তনালীর অস্বাভাবিক স্ফীত ও বৃদ্ধির ফলে এই অসুখ হয়। হাঁটাচলা করলে বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে টেস্টিসের উপরের রগ ফুলে উঠে এবং শুয়ে থাকলে আবার মিলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ব্যথাও অনুভব হয়। এ রোগ হলে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। তা ছাড়া আরও অনেক অসুখ যেমন স্পার্মাটোমমিল ও ইপিডিডাইমাল সিস্ট/টিবি ইত্যাদি অসুখ ও টেস্টিস হতে পারে।

About admin

Check Also

এই ৫টি ভেষজ খাবার যা উত্তে’জক ট্যাবলেটের থেকেও বেশি কার্যকর!

নজীবনে উদ্দীপনা আনতে ভায়াগ্রায় সাহায্য নেন অনেকেই। বর্তমান জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে যৌনজীবনে শিথিলতা আসছে। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *